উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার থেকে মুক্তির উপায় / High blood pressure treatment

 
                                                                   প্রতীকী ছবি

বিশ্বজুড়ে হাই ব্লাড প্রেসার একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত এবং আরও অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও বিপুল সংখ্যক মানুষ হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ তথা হাইপারটেনশনে ভুগে থাকেন। উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার এর সমাধান নিয়ে নিয়ে আজকের ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করব। শুরুতেই কিভাবে উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হয় সেটা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলি। কারণ রোগ সমন্ধে যত ভালোভাবে জানবে নিয়ন্ত্রণে রাখা তত সহজ হবে। 

উচ্চ রক্ত চাপের কিছু কারন 
আমাদের শরীরের রক্তনালীগুলো রাবারের মতো প্রয়োজনে প্রসারিত ও সংকুচিত হতে পারে। কিন্তু এই রক্তনালী যদি শক্ত হয়ে যায় তখন প্রয়োজনমতো প্রসারিত হতে পারেনা। ব্লাড প্রেশার বারার আরেকটি কারন হচ্ছে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হওয়া। এছাড়াও আরও কিছু কারন রয়েছে।

প্রেসার বেড়ে গেলে শরীরে কি কি সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে
★ উচ্চ রক্তচাপের ফলে রক্তনালীগুলো দুর্বল হয়ে যেতে পারে, রক্তনালির দেয়াল পাতলা হয়ে বেলুনের মতো ফুলে ওঠে সেটা হঠাৎ করে ছিঁড়ে যেতে পারে, তখন ব্রেইনের মারাত্মক রক্তক্ষরণ দেখা যায়।

★ রক্তনালীতে চর্বি জমা সুস্থ-স্বাভাবিক রক্তনালীতে চর্বি জমতে দেয় না, তবে উচ্চরক্তচাপ রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকে তখন রক্তনালীর গায়ে চর্বি কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমতে পারে, আস্তে আস্তে বড় হয় রক্তনালী সরু হয়, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় চর্বির গায়ের রক্ত জমাট বাধে একপর্যায়ে রক্তনালীর পুরোটাই বন্ধ হয়ে যেতে পারে,তখন রক্ত আর সামনে আগাতে পারে না এটা খুবই মারাত্মক ঘটনা। আপনারা নিশ্চয়ই ব্রেইন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের কথা শুনেছেন এটা সেই ঘটনা।

★ ব্রেইনের রক্তনালী বন্ধ হলে হয় স্ট্রোক তখন ব্রেইনের একাংশ আর রক্ত পায়না কোষগুলো মরে যায়। যেভাবে হার্টের রক্তনালী বন্ধ হলে হার্টঅ্যাটাক হয়।

★ হার্ট দুর্বল হয়ে যাওয়া, কিডনি অকেজো হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা দেখা দেয়া ইত্যাদি। 

★ আমার মতে হাই ব্লাড প্রেসার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিক এগুলোর কোনটাই নয়। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর  দিক হচ্ছে এর নীরবতা, কেননা হাই ব্লাড প্রেসার শরীরে যখন দেখা দেয় তখন আপাতদৃষ্টিতে কোন ব্যথা বা অসুবিধার সৃষ্টি করে না। তাই আমরা অধিকাংশ মানুষই এটা কে অগ্রাহ্য করে সেই সুযোগে হাই ব্লাড প্রেসার আস্তে আস্তে শরীরে ক্ষতি গুলো করতে থাকে। হঠাৎ একদিন দেখা দেয় মারাত্মক ব্যাধি। 

 হাই ব্লাড প্রেসার হলে কি  কি খাওয়া যাবে না 
★ অতিরিক্ত লবন খাওয় যাবেনা। লবন পরিমিত আকারে ক্ষেতে হবে। খাবারে সঠিক মাত্রায় লবণ ব্যবহার করলে তা হাই প্রেসারের ঝুঁকি কমায়। আমাদের দৈহিক কার্যক্রম‌ পরিচালনার জন্য প্রতিদিন মাত্র ৫০০ মিলিগ্রাম লবণ প্রয়োজন হয়। ডায়েটারি গাইডলাইনস ফর আমেরিকানস এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ২,৩০০ মিলিগ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। এটি প্রায় এক চা চামচের সমান।

★ রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। ময়দা, চিনি, সাদা ভাত, কেক, প্যাটি, বার্গার, সাদা পাঁউরুটির মতো খাবার খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। এমনি আটার রুটির বদলে জোয়ার, বাজরা, রাগির রুটি খেতে পারেন। ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকলে হাই প্রেশার কমে যায়।

★ তেল চর্বি বা ফ্যাট জাতীয় খাবার সব মিলিয়ে দিনে 2 থেকে 3 চা চামচের বেশি খাওয়া যাবে না। সেটা আঁচ মাংস সবজি তরকারি সাথেই হোক বা নাস্তার ভাজাপোড়া সাথেই হোক। 
 এবার আসি কি খাবেন কিছু কিছু খাদ্যে পটাশিয়াম থাকে যেটা রক্ত.

কোন খাবারে পটাশিয়াম থাকে আর কিভাবে বেশি পটাশিয়াম খাবেন  উপায় বলছি।  
★ দিনে চার থেকে পাঁচটা মাঝারি সাইজের ফল খাবেন। 

★ দিনে 2 থেকে আড়াই কাপ কাচা বা রান্না করা সবজি খাবেন। 

★চিনি যুক্ত দুধ এবং দই খাওয়া যাবে না কারণ সেগুলোতে ফ্যাট বেশি। খেতে হবে ফ্যাক্টরি দুধ কিংবা টক দই। দিনে 3-2 বার, এক কাপের মাপ হবে আড়াইশো এমএল এর মত। 

Post a Comment

0 Comments